বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০১৬



হিরণ বরন যেন বহে সমীরণ
শ্যামার জমিনে পড়ে শাওন ধারা
অরি জীবাত্মা লুকায়াছে কালা আন্ধারে
নূরানি ভুজঙ্গমে গোঁসাই মিলে ভোগায়তন।।


সামাজিক আয়োজনের প্রহর পেরিয়ে পূর্ণ প্রত্যবয়ব, ছায়াপথের ইশতেহারে পুনর্জন্মের চিত্রলিপি সত্যায়নে তৎপর।


ভেসে আসে মেন্দি ফুলের মিষ্টি গন্ধ...


অষ্টব্রজ সম্মেলন যে ঘনিয়ে এসেছে;
উঠনোর নৈর্ঋন কোনে সাধু দীননাথ এর ক্রন্দন।
অর্ঘ্য যোগাড়ের ইতি হয়নি,
তবে মিহিরের আর মধুজার শূন্যে তেইশটি প্রদক্ষিণ শেষ ।


পুনশ্চঃ
‘‘আমির ফকির হয়ে একাই
সবার পাওনা পাবে সবাই
আশরাফ বলিয়া রে হায়
ভবে কেহ নাহি রবে
।।’’
-
মহাত্মা লালন  




অনন্য অর্তি
আশরাফ আল যায়েদ
২৭ শে শ্রাবন ১৪২৩

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬

জগদ্বিধান



                এক
সূর্যাস্ত থমকে গেছে কালো চোলির আচ্ছাদনে, ধীরে ধীরে পুড়ে যায় স্টার ফিশের প্রনয় আর প্রবালের শ্বেতা গন্ধ
অথচ লাল গোলাপ বিদুর্ষমনির মতো চোখ মেলেছে প্রতীক্ষায়।
সব চাতকের আকাঙ্খার বিন্দু ধুলোকে কর্দমাক্ত করে না!
পূর্ণতা ঝুলছে পেন্ডুলামের সুতায়
নিয়তির নিষ্ঠুরতা শূন্য কথকথায়
ব্যর্থতা জলন্ত শলাকার ধোঁয়ায়
মুক্তিটা ধারি; প্রলুব্ধ আশায় ।
                
                দুই
ক্রোড়াধিক মুদ্রার কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতা, হইহুল্লো, আতশবাজির আলোকচ্ছটা, মেকি কান্না। অতঃপর আদিম খেলা; অবসাদ, ক্লান্তি, নৈরাশ্য, পুরোনো প্রেমের প্রথম স্পর্শ,  এখানে বিদ্যমান নয়।
যৌনতা বুঝি মানুষকে সব ভূলিয়ে দেয়?
            
              তিন
দক্ষ সাঁতারু ডুবসাঁতার খেলতে খেলতে খন্ডিত হয়ে জন্ম নেয় ধাবক, সূচনা হয় অনিশ্চয়তার মশাল হাতে ম্যারাথন দৌড়।

প্রবাল বৈঠক কক্ষের শোভা বাড়াচ্ছে, (ইদানিং শরীরে কালচে একটা দাগ পড়ে গেছে), স্টারফিশ অক্ষুণ্ণ! আজও যৌবন ধরে রেখেছে মিথাইল এলডিহাইডে।

গোলাপটা মিথ্যে নয়, একটা হলদে পাখি সরু চঞ্চুতে ছিড়ে নিয়ে গেছে।


           চার
গোলাপ নেই!
বিদুর্ষমনির দৃষ্টি রেয়াত হয়নি।

চাঁদের কপালে চাঁদ!
চাঁদের বুডির বোনা রেয়ন ধাবকের গাঁয়।ম্যারাথন দৌড়ে চরকার শব্দ শ্রবণোত্তর। 

সোমবার, ২১ মার্চ, ২০১৬

লিলাস্মিতা

নিলাস্মিতা ,
হয়তো তোমার হাসিমাখা উচ্ছল মুখ আমি আজ অব্দি দেখিনি ,তবুও সম্বোধন করলাম নিলাস্মিতা দিয়ে রাগ করলে না তো ?
ভালোবাসার জন্য কোনো কারন , উপমা , ব্যাখ্যা কিছুই লাগে না নীলিমায় যেমন একটু একটু মেঘ জমতে জমতে পরিস্ফুটন ঘটায় ঝমঝমে বৃষ্টি তেমনি হিরণ্যরেতায় পরিবেষ্টিত বৈচিত্র্যের মানবচিত্তে সামান্য আদ্রতার আঁচ লাগলেই তা দিয়ে গড়ে তোলে সাতরঙা রঙধনু ।

আমাদের এই সমাজে শুধু পুঁজিবাদ আর বৈষম্য । নিরবতায় পৌনঃপুনিক আড়মোড়া দিতে গিয়ে দেখি ঠোঁটে বিঁধে আছে আজস্র আলপিন । কিভাবে তোমায় বলবো বলো ?
হাংরি হাংরি বলে একদল উন্মাদ কবি  চিৎকার করছিলো আমি ওদের প্রতিনিধি হয়ে জন্মেছিলাম । তোমাদের আধুনিকতার রূপোলী ফুয়েলে মোড়ান চিকচিকে এই সমাজে আমি একেবারে বেমানান । আমার হাড় ও পাঁজরে লেগে আছে সস্তা তামাক আর মৌনতার ক্ষত ।

তোমায় দোষ দিব না ! শুভ্র বক বা মাছরাঙার রঙিন পালক দেখে অভিভূত হতেই পারো । কিন্তু জানতো , প্রবল বর্ষণের  সিক্ততা চড়ূই আস্তিনে মাখলেও বাবুইয়ের ঘরে যায় না । আমি হয়তো সেই ছোট্ট শহুরে স্পেরো ।

আমার বুঝি সাধ জাগে না কাউকে নিয়ে স্বপ্নের ঊর্ণাজাল বুনতে ? তোমার কাঠামো আমার প্রয়োজন নেই , তোমার মাঝে যে এক ঐশিদগ্ধ আত্মা আছে সেখানে হিরণ্যদ্যূতির আভার ন্যায় মিলিয়ে যেতে ইচ্ছে হয় ।

অনন্য এই জীবনে মুর্হমুহ মুখোমুখি হই মৃত্যুর সঙ্গে । আমি যে বাঁচতে চাই ! আমার ভেজা আস্তিন ; একটু ঠাঁই দিবে তোমার হৃদ প্রকোষ্ঠে ?
কথা দিচ্ছি  ,  ফুয়েলে মোড়ানো কৃত্রিম সামাজিকতা না দেখাতে পারলেও ; তোমায় শোনাতে পারি  নীলকণ্ঠ পাখির ডাক , ঝাউবনের শনশন শব্দ । দেখাতে পারি মিটিমিটি করে জ্বলা জোনাকির আলো আর এনে দিতে পারি অফুরান জোছনা ।

অনুভবে অনেক কিছুই উপলব্ধি করা যায় , জানি ভালো আছো । দূর থেকে যদি ঈশ্বরের আরাধনা করা যায় তবে অনুভবে তোমায় উপলব্ধি করাটা দোষের হবে না ।


পরিশিষ্ট  :
তুমি মহাশক্তি তুমি জয়লক্ষ্মী
তুমি উচ্ছল তরুণ প্রাণ
তুমি প্রেম তুমিই অভিমান
হিয়ার লুকানো সুরের গান ।।




আশরাফ আল যায়েদ
৫ই চৈত্র ১৪২২


 




শুক্রবার, ৫ জুন, ২০১৫

অঃপৃঃদ্রঃ

ছেলেটা অরুণ, যার প্রনোদিত অভিলাষে সিগ্ধ প্রভার রবি মুখ মেলে অবনীপারে।শিক্ষার উচ্চৈঃ পৌছতে মাধ্যমিক জীবনে; তার উল্লাস কিংবা আর্তনাদ জীবনের পাতায় ক্রমান্বয়ে সংযোজিত হচ্ছে।তার ক্ষুদ্র জগৎ মাপতে চাচ্ছে বিশালতার ক্যানভাস।
মোহ,আবেগ, ভালোলাগার সূত্রপাত বোধয় কৌশেরেই।অবর্জনাতেই বীজ ভালো অঙ্কুরিত হয়।অন্যদিকে মেঘ জমতে জমতে পরিস্ফুটন ঘটায় ঝমঝম বৃষ্টি। পাখি চাইলেই তো আর উদগত আকাশের কামানার রং মুছতে পারবে না।বয়সন্ধির বিষন্ন প্রহর ডাক দেয় প্রনয়ের অন্ধ সৌরভের প্রতিশ্রুতি নিতে।এই প্রবঞ্চনার কেও ছুটে মোহে, কেওবা যায় দেহে,কিন্তু পাগলটা ওর প্রতিকৃতি চিত্রার্পিত করেছিল অদৃশ্য হূদয়ে।
চিত্রায়িত অপ্সরীর সাথে তো সমৃদ্ধ নগরীর বালিকার সাদৃশ্য হতে পারে না।দুজনের মাঝে পারস্পারিক সমন্বয় হলেও অরুণ পৌনঃপুনিক বিদ্ধ হত অন্তস্থলের কালো বুলেটে। বৈরীতাকেই আনন্দমূর্ছনা ভেবে অনুরণিত করতো অন্তঃস্থল।
তীব্র অন্ধকারে অকূল সিন্দুর ঊর্মির প্রবল ঝড় দক্ষ নাবিকেরও হূদস্পন্দন বাড়িয়ে তোলে, দ্বিগ্বিদিক সে খোঁজে ফিরে কোন নক্ষত্রের ক্ষীণপ্রভা।
সবার জন্যই সবকিছু নয়, জাগ্রত কেও নিদ্রার ভান করলে তাকে নিদ্রায়িত রাখাই শ্রেয়।মাধ্যমিক সেই কবে গত হয়েছে... নিরন্তর সঞ্চারনশীল আপন কক্ষপথে আরুণ তার কত্ত আরাধনা করে।আর আরাধনার জন্য প্রয়োজন হয় দূরত্বের।
অরুন এখন;ধ্রুবজ্যোতি,নিরাসক্ত,অবিচল।আলোর রশ্মিতে খুঁজে নিজের প্রতিবিম্ব। সে সুখী আর মৌনতায় সুখ বিলোয় সবার মাঝে।
দৈবতায় যত্নে লিখা একটি পত্র আরাধনার টেপিকে দেওয়ার কথা ছিল,সে কথা রাখানি অরুণ। যার অনুভূতিই নেই তাকে ভাষা ছুড়ে দেওয়া নিষ্ফল।
তবে ভাগ্যক্রমে পত্রটি আমি দেখেছিলাম,তাতে প্রথম পৃষ্ঠায় লিখা ছিল... ' অঃপৃঃদ্রঃ', কিন্তু অপর পৃষ্ঠাটা ছিল উজ্জ্বল সাদা,তাতে আমি কোন দাগ দেখতে পাইনি। 

সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৪

"অনাগত প্রলয়" আশরাফ আল যায়েদ





ছিটেফোটা বৃষ্টি ।
প্রকৃতির সবুজ সৌন্দর্যের মাঝে কেমন জানি ভাব ।
আকাশের দিকে তাকালেই নেশা ধরে যায় ।

কয়েক ফোটা পাগলামি ভর করে ।

                                                                  অদ্ভূত আচরণ ।

আশ্চর্য রকম অনুভূতি ।
সব চিন্তাই যেন হারিয়ে যাচ্ছে অজানা অতল গহ্বরে ।

বুকে চিনচিনে ব্যাথা ।
হারানো জিনিসের জন্য পৈশাচিক আচরণ করতে ইচ্ছে করছে ।
মুহূর্তেই বদলে যাই ।
চলে আসে উন্মাদনা ,
 নিংড়ে দিই মনের জমান শত ক্ষোভ ।
ক্রোধের আহ্ববানে জাগতিক দিক ফেলে মন উচ্ছাসিত হয় উন্মাদনায় ।

যা বলিনি তা যদি শুনতে ।
যদি অনুভব করতে পারতে সেই ক্ষতের কালচে দাগগুলি ।
যা সযতনেই আছে ,হয়ত থাকবে ।
অব্যক্ত অনেক কিছু সারাজীবন রয়ে যায় ।
যা বলতে ভাষা ছুড়ে দিতে হয় না ।
প্রয়োজন হয় শাশ্বত আত্মার আর পবিত্র দৃষ্টির ।
যা তোমার নেই ।