সোমবার, ২১ মার্চ, ২০১৬

লিলাস্মিতা

নিলাস্মিতা ,
হয়তো তোমার হাসিমাখা উচ্ছল মুখ আমি আজ অব্দি দেখিনি ,তবুও সম্বোধন করলাম নিলাস্মিতা দিয়ে । রাগ করলে না তো ?
ভালোবাসার জন্য কোনো কারন , উপমা , ব্যাখ্যা কিছুই লাগে না । নীলিমায় যেমন একটু একটু মেঘ জমতে জমতে পরিস্ফুটন ঘটায় ঝমঝমে বৃষ্টি তেমনি হিরণ্যরেতায় পরিবেষ্টিত বৈচিত্র্যের মানবচিত্তে সামান্য আদ্রতার আঁচ লাগলেই তা দিয়ে গড়ে তোলে সাতরঙা রঙধনু ।

আমাদের এই সমাজে শুধু পুঁজিবাদ আর বৈষম্য । নিরবতায় পৌনঃপুনিক আড়মোড়া দিতে গিয়ে দেখি ঠোঁটে বিঁধে আছে আজস্র আলপিন । কিভাবে তোমায় বলবো বলো ?
হাংরি হাংরি বলে একদল উন্মাদ কবি  চিৎকার করছিলো আমি ওদের প্রতিনিধি হয়ে জন্মেছিলাম । তোমাদের আধুনিকতার রূপোলী ফুয়েলে মোড়ান চিকচিকে এই সমাজে আমি একেবারে বেমানান । আমার হাড় ও পাঁজরে লেগে আছে সস্তা তামাক আর মৌনতার ক্ষত ।

তোমায় দোষ দিব না ! শুভ্র বক বা মাছরাঙার রঙিন পালক দেখে অভিভূত হতেই পারো । কিন্তু জানতো , প্রবল বর্ষণের  সিক্ততা চড়ূই আস্তিনে মাখলেও বাবুইয়ের ঘরে যায় না । আমি হয়তো সেই ছোট্ট শহুরে স্পেরো ।

আমার বুঝি সাধ জাগে না কাউকে নিয়ে স্বপ্নের ঊর্ণাজাল বুনতে ? তোমার কাঠামো আমার প্রয়োজন নেই , তোমার মাঝে যে এক ঐশিদগ্ধ আত্মা আছে সেখানে হিরণ্যদ্যূতির আভার ন্যায় মিলিয়ে যেতে ইচ্ছে হয় ।

অনন্য এই জীবনে মুর্হমুহ মুখোমুখি হই মৃত্যুর সঙ্গে । আমি যে বাঁচতে চাই ! আমার ভেজা আস্তিন ; একটু ঠাঁই দিবে তোমার হৃদ প্রকোষ্ঠে ?
কথা দিচ্ছি  ,  ফুয়েলে মোড়ানো কৃত্রিম সামাজিকতা না দেখাতে পারলেও ; তোমায় শোনাতে পারি  নীলকণ্ঠ পাখির ডাক , ঝাউবনের শনশন শব্দ । দেখাতে পারি মিটিমিটি করে জ্বলা জোনাকির আলো আর এনে দিতে পারি অফুরান জোছনা ।

অনুভবে অনেক কিছুই উপলব্ধি করা যায় , জানি ভালো আছো । দূর থেকে যদি ঈশ্বরের আরাধনা করা যায় তবে অনুভবে তোমায় উপলব্ধি করাটা দোষের হবে না ।


পরিশিষ্ট  :
তুমি মহাশক্তি তুমি জয়লক্ষ্মী
তুমি উচ্ছল তরুণ প্রাণ
তুমি প্রেম তুমিই অভিমান
হিয়ার লুকানো সুরের গান ।।




আশরাফ আল যায়েদ
৫ই চৈত্র ১৪২২


 




শুক্রবার, ৫ জুন, ২০১৫

অঃপৃঃদ্রঃ

ছেলেটা অরুণ, যার প্রনোদিত অভিলাষে সিগ্ধ প্রভার রবি মুখ মেলে অবনীপারে।শিক্ষার উচ্চৈঃ পৌছতে মাধ্যমিক জীবনে; তার উল্লাস কিংবা আর্তনাদ জীবনের পাতায় ক্রমান্বয়ে সংযোজিত হচ্ছে।তার ক্ষুদ্র জগৎ মাপতে চাচ্ছে বিশালতার ক্যানভাস।
মোহ,আবেগ, ভালোলাগার সূত্রপাত বোধয় কৌশেরেই।অবর্জনাতেই বীজ ভালো অঙ্কুরিত হয়।অন্যদিকে মেঘ জমতে জমতে পরিস্ফুটন ঘটায় ঝমঝম বৃষ্টি। পাখি চাইলেই তো আর উদগত আকাশের কামানার রং মুছতে পারবে না।বয়সন্ধির বিষন্ন প্রহর ডাক দেয় প্রনয়ের অন্ধ সৌরভের প্রতিশ্রুতি নিতে।এই প্রবঞ্চনার কেও ছুটে মোহে, কেওবা যায় দেহে,কিন্তু পাগলটা ওর প্রতিকৃতি চিত্রার্পিত করেছিল অদৃশ্য হূদয়ে।
চিত্রায়িত অপ্সরীর সাথে তো সমৃদ্ধ নগরীর বালিকার সাদৃশ্য হতে পারে না।দুজনের মাঝে পারস্পারিক সমন্বয় হলেও অরুণ পৌনঃপুনিক বিদ্ধ হত অন্তস্থলের কালো বুলেটে। বৈরীতাকেই আনন্দমূর্ছনা ভেবে অনুরণিত করতো অন্তঃস্থল।
তীব্র অন্ধকারে অকূল সিন্দুর ঊর্মির প্রবল ঝড় দক্ষ নাবিকেরও হূদস্পন্দন বাড়িয়ে তোলে, দ্বিগ্বিদিক সে খোঁজে ফিরে কোন নক্ষত্রের ক্ষীণপ্রভা।
সবার জন্যই সবকিছু নয়, জাগ্রত কেও নিদ্রার ভান করলে তাকে নিদ্রায়িত রাখাই শ্রেয়।মাধ্যমিক সেই কবে গত হয়েছে... নিরন্তর সঞ্চারনশীল আপন কক্ষপথে আরুণ তার কত্ত আরাধনা করে।আর আরাধনার জন্য প্রয়োজন হয় দূরত্বের।
অরুন এখন;ধ্রুবজ্যোতি,নিরাসক্ত,অবিচল।আলোর রশ্মিতে খুঁজে নিজের প্রতিবিম্ব। সে সুখী আর মৌনতায় সুখ বিলোয় সবার মাঝে।
দৈবতায় যত্নে লিখা একটি পত্র আরাধনার টেপিকে দেওয়ার কথা ছিল,সে কথা রাখানি অরুণ। যার অনুভূতিই নেই তাকে ভাষা ছুড়ে দেওয়া নিষ্ফল।
তবে ভাগ্যক্রমে পত্রটি আমি দেখেছিলাম,তাতে প্রথম পৃষ্ঠায় লিখা ছিল... ' অঃপৃঃদ্রঃ', কিন্তু অপর পৃষ্ঠাটা ছিল উজ্জ্বল সাদা,তাতে আমি কোন দাগ দেখতে পাইনি। 

সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৪

"অনাগত প্রলয়" আশরাফ আল যায়েদ





ছিটেফোটা বৃষ্টি ।
প্রকৃতির সবুজ সৌন্দর্যের মাঝে কেমন জানি ভাব ।
আকাশের দিকে তাকালেই নেশা ধরে যায় ।

কয়েক ফোটা পাগলামি ভর করে ।

                                                                  অদ্ভূত আচরণ ।

আশ্চর্য রকম অনুভূতি ।
সব চিন্তাই যেন হারিয়ে যাচ্ছে অজানা অতল গহ্বরে ।

বুকে চিনচিনে ব্যাথা ।
হারানো জিনিসের জন্য পৈশাচিক আচরণ করতে ইচ্ছে করছে ।
মুহূর্তেই বদলে যাই ।
চলে আসে উন্মাদনা ,
 নিংড়ে দিই মনের জমান শত ক্ষোভ ।
ক্রোধের আহ্ববানে জাগতিক দিক ফেলে মন উচ্ছাসিত হয় উন্মাদনায় ।

যা বলিনি তা যদি শুনতে ।
যদি অনুভব করতে পারতে সেই ক্ষতের কালচে দাগগুলি ।
যা সযতনেই আছে ,হয়ত থাকবে ।
অব্যক্ত অনেক কিছু সারাজীবন রয়ে যায় ।
যা বলতে ভাষা ছুড়ে দিতে হয় না ।
প্রয়োজন হয় শাশ্বত আত্মার আর পবিত্র দৃষ্টির ।
যা তোমার নেই ।



বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০১৩

এলোমেলো

আশরাফ আল যায়েদ


কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল,
রোদেলা দুপুর,
ভোরের সূর্য ,
কিংবা রক্তিম আভার বিকেল।

দূরে,ঐ দূরে,কি একটি শব্দ
কে যেন ডাকে,
হয়ত ডাহুক পাখি
নয়ত অন্য কিছু।

সবকিছু ঠিকঠাক
আবার এলোমেলো।
সস্তা সিগারেটের ধোঁয়া
কলরব,কোলাহল
নিস্তব্ধ,সরবর।

অনুভূত হয় ---
মাথার নিউরনে ভোঁ ভোঁ পোকার শব্দ
রক্তের অনুচক্রিয়া যেন কিটের মতো কিলবিল করে

কতগুলো খাতা পত্র
একটা রক্ত লাল কলম
খাটের পাশে কিছু পুরানো ওষুধের শিশি
মুঠোফোন,দিয়াশলাই
কিছু পুরনো টি শার্ট আর ঝলসানো রঙের জিন্স
এক জোড়া ছিড়া চটি
মানিব্যাগে এক গাঁদা কাগজের মধ্যে একটা আধুলি।



আমি???
শব্দ! অসহ্য।

অশ্রুজল!!
রাতের আকাশে চাঁদ নেই,
সকালে নিশ্চইয় সূর্য উঠবে।

করুণ আর্তনাদ,নিওরনে পোকা
অনুচক্রিয়ার জ্বালা,ভুলবার অসুখ


কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল


কিংবা রক্তিম আভার বিকেল

সময়ের আর্তনাদ


১।
দৃষ্টির বিচ্ছেদ;
অবচেতন মনে অবাঞ্চিত বাসনা,
হটাৎ নয়ন অভিমুখে কারো আবির্ভাব;
মুহূর্তেই উজ্জীবিত হয়ে আলোর মাঝে আড়মোড়া দিই।
২।
নিগূড় এক মোহে হেঁটে চলা;
স্বতঃস্পন্দনশীল হৃদয়স্পন্দন ক্রমাগত বাড়ছে...
মন্দীভূত হয় দৃষ্টি।
৩।
অবসাদ আঁকড়ে ধরে,
কাঁতর হিয়া যেন স্বাদ মেটাবে শ্রান্ত চাহনির;
যেন কালো কোন ছায়ার মাঝে আলকিত হলুদ।
৪।
সার্থক আমার যাত্রা,তোমার নতুনত্বে;
তোমার নরম দেহে অপ্রত্যাশিত কারো কালো ছোঁয়া...
কতটা যে যন্ত্রণার!!!
যার প্রতিবিধান সম্ভব নয়।
৫।
পূর্বের স্মৃতিতে বিচরণ করি,
যেখানে থাকার কথা ছিল,সেখানেই আছি।
আর নতুনত্ব?সেটা তোমার।
আমার,শুধু অদৃষ্টের করুন পরিহাস।
৬।
বিমর্ষ বাকরুদ্ধ পরিস্থিতি;
একটু পরেই হয়ত যাত্রা হবে অন্ধকার অজানা অতল কোন গহ্বরে।
৭।
তবে এতটুকুই বলবো,
যদি পারো আমার নয়ন অভিমুখে উন্মেলিত করে ধরো
তোমার নিষ্পাপ দৃষ্টি;
সেখানে এখনো খুঁজে পাবে
তোমায় নিয়ে দেখা প্রচ্ছন্ন পবিত্র স্বপ্ন।

৬-৮-১৩ এর প্রেক্ষাপটে

‪#‎রচনা‬ ও সর্বস্বত্ব সংরক্ষন:আশরাফ আল যায়েদ